বড় বড় তারকারা কিছুটা লুকোচুরি খেলবেন এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই যেন নিয়ম। সেই নিয়মেরই অংশ যেন এটি। মিডিয়ায় যারা কাজ করতে আসেন তারা তাদের আসল নাম গোপন করবেন বা বদলে ফেলাবেন, সেই ইতিহাসটা তো আর নতুন কিছু নয়।
উত্তম-সুচিত্রা, সুচন্দা থেকে শাবনূর তারা সকলেই মিডিয়ায় অভিষেকের সময় বদলে ফেলেছেন তাদের আসল নাম। হালের বিদ্যা সিনহা মিম-এরও নামও নাকি আসল নয়। এমটাই জানা গেছে প্রয়াত বিখ্যাত এক লেখকের বই থেকে।
সে যাই হোক বলছিলাম বলিউড টিনসেলে এই সময়ের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা মডেল অভিনেত্রী সানি লিওনের কথা। এ নামটি নিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজা হয় তাকে, যা কিনা রেকর্ড তৈরি করে। আবার তার অভিনীত ছবির খবর দেখলেই দর্শক নড়েচড়ে বসেন বাড়তি বিনোদন পাওয়ার আশায়।
সে যাই হোক বলছিলাম বলিউড টিনসেলে এই সময়ের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা মডেল অভিনেত্রী সানি লিওনের কথা। এ নামটি নিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজা হয় তাকে, যা কিনা রেকর্ড তৈরি করে। আবার তার অভিনীত ছবির খবর দেখলেই দর্শক নড়েচড়ে বসেন বাড়তি বিনোদন পাওয়ার আশায়।
সেই সানি লিওন বিষয়ক কিছু তথ্য আজ আপনাদের জানাতে চাই, যা আগে হয়তো কোথাও পড়েছেন কিš‘ এখন তা মনে নেই। আবার হয়তো বা আপনি জানেনই না যে, আপনি তাকে যে নামে জানেন সেটা আসল নয়। এ রকম ভুলে যাওয়া অথবা অজানা দশটি তথ্য দিচ্ছি আজ।
১. সানি লিওনের উপরে বলিউডের দৃষ্টি পড়েছিলো যখন তিনি ভারতের সমালোচিত টিভি রিয়েলিটি শো বিগ বস-এর অংশ নিতে কানাডা থেকে ভারতে উড়ে আসেন। সে সময় তার একমাত্র পরিচয় ছিল, তিনি পর্নো সিনেমার অভিনেত্রী। এ টিভি শোয়ে অংশ নেওয়ার আগেও তিনি টসটসে শরীর দেখিয়ে আর আগুন ঝড়া চাহুনি দিয়ে পুরুষের কামনাকে বাড়িয়ে দেওয়ার কাজ করতেন।
সে সময় থেকে তিনি সানি লিওন নামে পরিচিতি পেলেও এটা তার আসল নাম নয়। এ আবেদনময়ী নারীর বাবা-মায়ের দেওয়া নাম কারিনজিৎ কৌর বহরা। আর সানি লিওন নামটি তিনি স্টেজে ব্যবহার করতেন। সে সময় সানি পেশায় ছিলেন একাধারে ইন্দো-কানাডিয়ান এবং আমেরিকান অভিনেত্রী, ব্যবসায়ী ও মডেল।
২. একটি চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে বলিউডে কাজ শুরু করেন সানি লিওন। তিনি যখন টিভি শো বিগ বসের জন্য কাজ করছিলেন সে সময় তার কাছ থেকে ঘোষণা আসে, ভারতীয় সিনেমায় তিনি অভিনয় করে নিজের অভিনয় প্রতীভাকে প্রমাণ করে দেখাবেন।
যদিও তার সেই ঘোষণার পর থেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরার জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সে যাই হোক, সানি লিওন যখন একজন পর্নো অভিনেত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র উনিশ। আর সে সময় তিনি পেডিয়েট্রিক বিষয়ে পড়াশুনা করতেন।
৩. রাগীনি এমএসএস ২-তে অভিনয় করা একমাত্র অভিনেত্রী তিনি, যিনি কিনা সিনেমাটির নির্মাতাদের সঙ্গে লোকেশন খুঁজতে গেছেন। এই অভিনেত্রী একটি ক্যাথলিক স্কুলে পড়ালেখা করেছেন এবং ১১ বছর বয়সে তিনি প্রথম কোনো পুরুষকে চুমু খেয়েছেন। সানি লিওন অন্য একটি স্কুলে পড়ার সময় একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের কাছে নিজের কুমারিত্ব হারান।
সে সময় তার সয়স ছিল ষোল। এরপর তিনি আঠার বছর বয়স থেকে একজন উভয়গামী হিসেবে নিয়মিত যৌনসম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। তবে এক্ষেত্রে সঙ্গী হিসেবে তিনি পুরুষদেরকেই পছন্দ করতেন।
৪. ২০১০ সালে একটি প্রথম সারির পুরুষদের ম্যাগাজিনের জন্য সেরা ১২ পর্নো তারকার সঙ্গে মডেল হন। তিনি চোখে গ্লিসারিন লাগিয়ে প্রথম কাঁদতে শেখেন জিসম টু-এর সেটে। এরপর তার অভিনীত রাগীনি এমএমএস টুতে এতটাই খোলামেলা অভিনয় করেন যা পরে সিনেমা থেকে বাদ দিতে হয়।
৫. পর্নো তারকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর আগে তিনি জার্মান বেকারি জিফি লুবিতে কাজ করতেন। এছাড়া তিনি একটি ট্যাক্স ও রির্টায়ারমেন্ট ফার্মেও কাজ করতেন। এখন তিনি বলিউডে ¯’ায়ি হওয়ার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। যদি ভারতে আসার আগে এ নিয়ে তার অনেক দ্বিধা ছিলো।এ বিষয়ে তার অভিমত, আমাকে যখন ভারতে আসার জন্য বলা হলো, তখন আমি তা নিয়ে খুবই ভীত ছিলাম।
ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেরে সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। কেননা সে সময় এখানে বসবাস করার বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিলো না। যখন আমি মিডিয়ায় আসলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় কমিউনিটি আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করলো। তাদের সেই ঘৃণা আমি আর পেতে চাইনি। কিš‘ মজার বিষয় হলো, এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেই ভারতীয় কমিউনিটিই আমাকে নিয়ে গর্ব করে।
৬. সানি লিওন ভারতের বাহিরে একজন পর্নো অভিনেত্রী ও প্রযোজক হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারতে পরিচিতি পান ২০১১ সালে টিভি শো বিগ বস এর সিজন ফাইভ-এর মাধ্যমে। এই শো তাকে ভারতে পরিচিত করে তোলে। এর আগে সানি বিয়াল্লিশটি পর্নো সিনেমা পরিচালনা করেছেন এবং একচল্লিশটি পর্নো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এখন তিনি বলিউডে সিনেমায় অভিনয়সহ নানাধরণের কাজ করছেন। ভবিষ্যতে তাকে বলিউডে একজন প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেই অনুমান করা হয়।
৭. সানি বিয়ে করেছেন ড্যানিয়েলে ওয়েবেরকে। তবে তিনি প্লেবয় এন্টারপ্রাইজের মার্কেটিং ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাট এরিকসনের বাগদত্তা ছিলেন। ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সানি একটি স্বা¯’্যবান শিশুর মা হতে চান। এ বিষয়ে সানি টাইস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, আমরা দুজনেই একটি শিশু জন্ম দেওয়ার কথা ভাবছি। ড্যানিয়েল একটি ছোট্ট মেয়ে চায়। তবে আমরা কাছে ছেলে বা মেয়ে কোনো বিষয় না। আমার চাওয়া সেই শিশুটি স্বা¯’্যবান হোক। তবে এটা জানি না এ আশা কবে পূর্ণ হবে। হয়তো শিগগিরি তা হবে।
৮. সানি লিওনকে সর্বশেষ রাগীনি এমএমএস টু তে দেখা গেছে। এই সিনেমায় তিনি ভূতের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তবে এই অভিনেত্রীর দাবী তিনি কখনই ভূতকে ভয় পান না। এবং তার বাস্তব জীবনে কখনই ভূত নিয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তিনি ভূতে ভয় না পেলেও কীটপতঙ্গ ও ছাড়পোকাকে দারুণ ভয় পান। এটা নাকি তার এক ধরণের ফোবিয়া।
৯. সানি ভ্রমণ করতে খুব পছন্দ করেন। তিনি সারা দুনিয়াকে ঘুরে ফিরে দেখতে চান। বলিউডে কাজ শুরু আগে তিনি চারবার ভারত ঘুরে গেছেন। এই পর্নো তারকার কাজের মূল শক্তি হলো তার আতœবিশ্বাস। তিনি মনে করেন, আমার কয়েকটি ছবি দেখার পরে মানুষ এটা জেনেছেন যে আমি একজন ডেডেগেটেড মানুষ। আমি হয়তো নিজের প্রতীভাকে মেলে ধরার জন্য সময় নিচ্ছি।
তবে আমার কাজ নিয়ে আমি একটুও অনুতপ্ত নই। যাই হোক আমি মনে করি, আমার অতীতের কাজ যারা দেখেছেন তাদের মধ্যে আমি যদি একজনের মানসিকতাকেও পরিবর্তন করতে পারি তাহলেই আমি স্বার্থক। আমি কাউকে আঘাত করতে চাইনি। আমি কারো ঘর ভাঙতে যাইনি। আমি শুধু আমার সিনেমারগুলোর জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এবং আমি সেটা অব্যাহত রাখব।’
১০. এই শিল্পী যখন বিগ বসের বাড়িতে কাজ করছিলেন তখন ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা মহেশ ভাটের নজরে আসেন। সে সময়ই তিনি এই অভিনেত্রীকে তার জিসম টু এর জন্য চুক্তিবদ্ধ করান। তবে অবাক করা বিষয় হলো সানি লিওন ছবিটিতে কাজের জন্য দশ লাখ মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক দাবি করেন।


No comments:
Post a Comment